হযরত ওমর (রা.) সম্পর্কে ১৬টি অজানা তথ্য

0
304

হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বড় হয়েছেন আর দশটা কুরাইশ বালকের মতোই শৈশবে উটের রাখালী করে। পরিণত বয়সে তিনি ব্যবসার জন্য সিরিয়ায় সফর করেছেন। এক সাধারণ ওমর থেকে তিনি পরবর্তীতে অর্ধেক পৃথিবী শাসনকারী খলীফায় পরিণত হবেন, এটি হয়তো তিনিও তখন কল্পনা করতে পারেননি।
রাসূল (সা.) এর জন্মের চৌদ্দ বছর পর কুরাইশ বংশের বনী আদী গোত্রে জন্ম নেওয়া পৃথিবীর ইতিহাসের পট পরিবর্তনকারী এই ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ছিলেন ইসলামের প্রচন্ড বিরোধীতাকারী। পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণের পর তিনি হয়ে যান রাসূল (সা.) এর অন্যতম প্রধান সহকারী। তার ইসলাম গ্রহণের পর পরই মুসলমানরা প্রথম প্রকাশ্যে কাবায় নামায আদায় করার সাহস করে।
রাসূল (সা.) এবং তার পরবর্তী খলীফা হযরত আবু বকর (রা.) এর সময়ে তিনি ছিলেন তাদের প্রধানতম সহযোগীদের মধ্যে একজন। হযরত আবু বকর (রা.) এর ইন্তেকালের পর ৬৩৪ ঈসায়ীতে তিনি মুসলিম উম্মাহর খলীফা হিসেবে নিযুক্ত হন। তার দশ বছরের শাসনকালে তৎকালীন বিশ্বের প্রধান দুই পরাশক্তি; বাইজান্টাইন ও সাসানীয় সাম্রাজ্যকে পরাজিত করে তখনকার পরিচিত পৃথিবীর অর্ধেকাংশে তিনি মুসলিম সাম্রাজ্যের বিস্তার করে পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন সময়ের সূচনা করেন। ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রকে তিনিই প্রথম সুদৃঢ় অবকাঠামো দান করেন এবং সুশৃঙ্খলভাবে এর পরিচালনার ব্যবস্থা করেন।
ঈসায়ী ৬৪৪ সালের ৩রা নভেম্বর, ২৩ হিজরীর ২৬শে জিলহজ্জ্ব জনৈক পারসিক কৃতদাসের হাতে শহীদ হওয়ার পূর্বে তিনি ইসলামী সাম্রাজ্যকে পূর্বে পারস্য থেকে পশ্চিমে বর্তমান তিউনিসিয়া, দক্ষিণে ইয়েমেন থেকে উত্তরে ককেশাস পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। এখানে হযরত ওমর (রা.) এর জীবনের নানাদিক নিয়ে সাধারনভাবে অজানা ১৬টি তথ্য তুলে ধরা হল।

এক. হযরত ওমর (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের গুটিকয়েক শিক্ষিত লোকদের মধ্যে অন্যতম। সমগ্র আরবে স্বল্প যে কয়জন লোক অক্ষরজ্ঞানের অধিকারী ছিল, হযরত ওমর (রা.) ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।

দুই. যৌবনে হযরত ওমর (রা.) কুস্তিগীর, মল্লযোদ্ধা এবং বক্তা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।

তিন. হযরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ইসলাম প্রচারের প্রচন্ড বিরোধী ছিলেন। ইসলাম প্রচারের বিরোধীতা করতে গিয়ে তিনি এতদূর অগ্রসর হন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে হত্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

চার. হযরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার ভাই হযরত যায়েদ ইবনে খাত্তাব (রা.), বোন হযরত ফাতেমা ইবনে খাত্তাব (রা.) এবং ভগ্নিপতি হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) তার পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন।

পাঁচ. রাসূল (সা.) কে হত্যা করতে গিয়ে তিনি তার বোন ও ভগ্নিপতির ইসলাম গ্রহণের খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বোনের বাড়ীতে যান। পরে ঘটনাক্রমে সেখানে তিনি সূরা ত্বাহার প্রথম ছয় আয়াত পাঠ করার সুযোগ পান। সূরা ত্বাহার এই ছয় আয়াত পাঠ করার পর তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন এবং রাসূল (সা.) এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।

ছয়. হযরত ওমর (রা.) এর উৎসাহেই রাসূল (সা.) কাবার চত্ত্বরে মুসলমানদের নিয়ে জাময়াতে নামায আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলমানরা প্রথমবারের মত মক্কায় প্রকাশ্যে নামায আদায় করে।

সাত. রাসূল (সা.) প্রথম তাকে আল-ফারুক (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী) নামে ভূষিত করেন।

আট. নামাযের জন্য আযান দেওয়ার ব্যবস্থা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) এবং হযরত ওমর (রা.) এর স্বপ্নের ভিত্তিতেই গ্রহণ করা হয়।

নয়. রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের পর খলীফা হিসেবে হযরত আবু বকর (রা.) এর নাম প্রথম হযরত ওমর (রা.) উত্থাপন করেন এবং তিনিই প্রথম আবু বকর (রা.) এর কাছে বাইয়াত করেন।

দশ. হযরত আবু বকর (রা.) হযরত ওমর (রা.) এর পরামর্শেই প্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং এই লক্ষ্যে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) এর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেন।

এগারো. হযরত আবু বকর (রা.) তার ইন্তেকালের সময় হযরত ওমর (রা.) কে খলীফা হিসেবে নিযুক্তির জন্য মুসলিম জনসাধারণের কাছে সুপারিশ করে যান এবং এই সুপারিশের ভিত্তিতেই হযরত ওমর (রা.) খলীফা হিসেবে নির্বাচিত হন।

বারো. হযরত ওমর (রা.) প্রথম খলীফা যিনি আমীরুল মুমিনিন (বিশ্বাসীদের নেতা) উপাধিতে ভূষিত হন।

তেরো. হযরত ওমর (রা.) এর শাসনকালেই তৎকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তি; পারসিক সাসানীয় সাম্রাজ্য এবং রোমান বাইজান্টানীয় সাম্রাজ্যকে মুসলমানরা চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে সমগ্র পারস্য সাম্রাজ্যে এবং বাইজান্টানিয় শাসনাধীন এশীয় ও আফ্রিকান অঞ্চলসমূহে মুসলিম শাসনের বিস্তার করে।

চৌদ্দ. ৬৩৭ ঈসায়ীতে হযরত ওমর (রা.) জেরুসালেম সফর করেন এবং রোমানদের হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত অসংখ্য নবীর স্মৃতিধন্য বাইতুল মুকাদ্দাস তথা মসজিদুল আকসাকে পুননির্মাণ করেন।

পনের. মুসলিম খিলাফতের সচিবালয়, বাইতুল মাল (কোষাগার), সেনানিবাস, প্রাদেশিক শাসন ও বিচারব্যবস্থা ওমর (রা.) প্রথম প্রবর্তন করেন। এছাড়া মুসলিম মুদ্রা ব্যবস্থা এবং হিজরী ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন তার হাত ধরেই সম্পন্ন হয়।

ষোল. হযরত ওমর (রা.) প্রথম মুসলিম শাসক যিনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন।

সুত্রঃ ইসলামিক ইনফরমেশন ডট কম

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here